না ফেরার দেশে পাপেটশিল্পের জাদুকর মুস্তাফা মনোয়ার
- Reporter 12
- 29 Jun, 2026
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাসপাতালে শেষ যুদ্ধ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় প্রায় দুই বছর ধরে ভুগছিলেন তিনি। গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। এর আগেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার নিউমোনিয়ার কাছেই হার মানলেন এই শিল্পী।
জীবন ও কর্ম
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন যশোর জেলার (বর্তমান মাগুরা) নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুন দম্পতির সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা করলেও পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান
বাংলাদেশে পাপেটশিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ায় তিনি ‘পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ও পাপেটভিত্তিক পরিবেশনা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ দিয়ে আসছে।
তার অসামান্য কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ প্রদান করে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মেরী মনোয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের এই প্রয়াণ দেশীয় সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে ‘দৈনিক জীবন বাংলা’ পরিবার।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *







